সহজ ভাষায়, Geology বা ভূতত্ত্বহলো এমন একটি বিজ্ঞান যা পৃথিবী, এর গঠন, উপাদান (শিলা ও খনিজ) এবং সময়ের সাথে সাথে এতে হওয়া পরিবর্তনগুলো নিয়ে আলোচনা করে।
এদুয়ার্ড সুয়েস পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন অধ্যয়নের জন্য একটি তত্ত্ব দিয়েছিলে।
তিনি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ভাগ্যের তিনটি ভাগে বিভক্ত করেন
তার মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের স্তরটি সিলিকন এবং অ্যালুমিনিয়ামের আধিক্য কারণে এর নাম SIAL তার মতে উপরের স্তরটি এসি ডি এবং এর ঘনত্ব হচ্ছে আড়াই থেকে সাড়ে তিন গ্রাম /সেন্টিমিটার কিউব।
তাঁর মতে, এই স্তরে সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়ামের প্রাচুর্যের কারণে এর নামকরণ করেন SIMA; এই স্তরের গড় ঘনত্ব ৫ থেকে ৭ গ্রাম/সেন্টিমিটার কিউব হয়ে থাকে।
সবজি নিচের স্তরে নিকেল(ni ),লোহা(fe) প্রাধান্যর কারণে এ নিচের স্তরকে তিনি নিফে(NIFE) বলে নামদেন গড় ঘনত্ব ৯ থেকে ১১ গ্রাম /সেন্টিমিটার কিউব ।
পৃথিবীর গড় ঘনত্ব ৫.৫ গ্রাম /সেন্টিমিটার কিউব।
সুয়েজের এর ধারণাকে আধুনিক বিজ্ঞানেরা প্রতিকার করেন তাদের মতে সবথেকে উপরের স্তর Crust,ত্রাস মাঝে স্তর Mental, নিচের স্তর Core
Crust/Lithosphere/শিলামণ্ডল
থিবীর একেবারে বাইরের পাতলা এবং কঠিন আবরণ, যার ওপর আমরা বাস করি। । এটি পৃথিবীর মোট আয়তনের মাত্র ১%
ভূত্বককে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
মহাদেশীয় ভূত্বক (Continental Crust): এটি মহাদেশগুলোর নিচে থাকে। এটি গড়ে প্রায় ৩৫-৪০ কিমি পুরু হয়। এটি মূলত গ্রানাইট শিলা দিয়ে তৈরি।
মহাসাগরীয় ভূত্বক (Oceanic Crust): এটি সমুদ্রের তলদেশে থাকে। এটি মহাদেশীয় ভূত্বকের চেয়ে অনেক পাতলা (গড়ে ৫-১০ কিমি)। এটি মূলত ব্যাসল্ট শিলা দিয়ে তৈরি।
Mental বা গুরুমণ্ডল
এটি মাঝের স্তর একেও white of earth বলা হয়ে থাকে ভূমিকম্প এবংআগ্নেয়গির এর উৎপত্তি এখান থেকেই হয়ে থাকে এখানে তরল ম্যাগমা থাকে পৃথিবীর মোট ভাগের ৮৩% হয়েছে মেন্টাল
কেন্দ্রমণ্ডল বা Core
সবচেয়ে নিচের অংশ এখানে লোহা এবং নিকেল প্লাজমা অবস্থায় থাকে এখানে অনেক পরিমাণ মেটাল থাকার কারণে একে মেটালিক স্পেয়ারও বলা হয়ে থাকে এখানকার gravitational force সবচেয়ে বেশিবার কারণে একে গুরুত্ব মন্ডল ও বলা হয়ে থাকে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি হয় পৃথিবীর মোট ভাগের ১৬ পার্সেন্ট।
মোহো বিযুক্তি
মহাবিযুক্তি উপরে crust এবং নিচে Mental দুটিকে আলাদা করেছে
গুটেনবার্গ বিযুক্তি
মেন্টাল কাকের থেকে আলাদা করেছে গুটেনবার্গ যুক্তি
কনরাড বিযুক্তি
আপার কাছ লোয়ার ক্রাশ দুটিকে বিভক্ত করেছে কোনরাডো বিযুক্তি রেখা
রেপেত্তি বিযুক্তি
- অবস্থান: ঊর্ধ্ব-গুরুমণ্ডল এবং নিম্ন-গুরুমণ্ডলের মাঝে।
লেহম্যান বিযুক্তি (Lehmann Discontinuity)
- অবস্থান: বহিঃ-কেন্দ্রমণ্ডল এবং অন্তঃ-কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে।
Continental Drift
আজ থেকে প্রায় ২০ কোটি বছর আগে প্যানজিয়া (Pangea) নামক এই বিশাল এককমহাদেশটি ভাঙতে শুরু করে। এটি ভেঙে প্রধানত দুটি নতুন বিশাল মহাদেশ বা অতিমহাদেশ (Supercontinent) তৈরি হয়েছিল। প্যানজিয়া দুটি ভাগে ভাগে উত্তরে aynger ল্যান্ড /লরেশিয়া (Laurasia)এবং দক্ষিণা গন্ডগোলের নামের দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যায় আর এরএর মাঝে জল চলে আসে আর এর নাম হয় টেথিস সাগর
অ্যাঙ্গালল্যান্ড এবং গন্ডোলা ল্যান্ড বি স্থাপনের সময় একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয় এবং টেথিস সাগর ধ্বংস হয়.
আলফার্ড ওয়াগনের এই এই ধারনা দেন ।
হ্যারি হেস-এর সমুদ্রবক্ষ বিস্তার তত্ত্ব (Sea Floor Spreading Theory)
- পাত বা প্লেট: পৃথিবীর লিথোস্ফিয়ার বা ওপরের শক্ত আবরণটি কতগুলো বড় ও ছোট খণ্ডে বিভক্ত। এগুলোকে বলা হয় ‘পাত’ (Plate)।
- পাতগুলোর চলন: এই পাতগুলো নিচের থকথকে ম্যাগমার ওপর ভাসছে এবং বছরে কয়েক সেন্টিমিটার করে সরে যাচ্ছে।
- পাতের সীমানা ও পর্বত সৃষ্টি:
- অভিসারী সীমানা (Convergent): যখন দুটি পাত একে অপরের দিকে এগিয়ে আসে এবং ধাক্কা খায়। এর ফলেই হিমালয়-এর মতো ভঙ্গিল পর্বত তৈরি হয়েছে।
- প্রতিসারী সীমানা (Divergent): যখন দুটি পাত একে অপরের থেকে দূরে সরে যায় (যেমন হ্যারি হেসের সমুদ্রবক্ষ বিস্তার)।
- নিরপেক্ষ সীমানা (Transform): যখন দুটি পাত একে অপরের থেকে দূরে সরে যায় যায়, ফলে ভূমিকম্প হয়।
ভূমিকম্পের কারণ
- যখন দুটি পাত একে অপরের দিকে এগিয়ে আসে এবং ধাক্কা খায়
- যখন দুটি পাত একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়
- যখন দুটি পাত একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়
সাধারণত, এই তিনটি কারণে ভূমিকম্প ঘটে।ভূমিকম্প যেখানে স্টার্ট হয়ে থাকে ভূমিকম্পের ফোকাস বা মূল বলা হয়, ভূমিকম্পের সময়, যে বিন্দুতে তরঙ্গগুলো সর্বপ্রথম আঘাত হানে, তাকে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র (Epicenter) বলা হয়; এখানেই ভূমিকম্প সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।
ভূমিকম্পের সময় তিন ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়:
১. P-তরঙ্গ (Primary Wave): এটি সবচেয়ে দ্রুত এবং কঠিন ও তরল—উভয় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে।এটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 6k/s
২. S-তরঙ্গ (Secondary Wave): এটি শুধুমাত্র কঠিন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। এটি P-তরঙ্গের চেয়ে একটু ধীর।এটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ3k/s
৩. L-তরঙ্গ (Surface Wave): এটি ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে যায়। এটি সবচেয়ে ধীরগতির হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি এই তরঙ্গের ফলেই হয়।এটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ1/2 k/s
ভূমিকম্প পরিমাপের যন্ত্র ও স্কেল
- সিসমোগ্রাফ (Seismograph): এটি এমন একটি যন্ত্র যার মাধ্যমে ভূমিকম্পের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব লিপিবদ্ধ করা হয়।
- রিখটার স্কেল (Richter Scale): এই স্কেলের মাধ্যমে ভূমিকম্পের শক্তি বা মাত্রা (Magnitude) পরিমাপ করা হয়। এর মান ০ থেকে ১০ পর্যন্ত হতে পারে। ৫-এর ওপরে গেলেই তা শক্তিশালী হিসেবে ধরা হয়।
- মারকালি স্কেল (Mercalli Scale): এর মাধ্যমে ভূমিকম্পের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ (Intensity) পরিমাপ করা হয়।
সুনামি:
সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প হলে বিশাল জলোচ্ছ্বাস বা সুনামির সৃষ্টি হয়।
২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামি (২৬শে ডিসেম্বর): সুমাত্রা দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট এই সুনামিতে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডসহ ১৪টি দেশে প্রায় ২.৩ লক্ষ মানুষ মারা যান।
২০১১ সালের জাপান সুনামি (তহুকু): এই সুনামির ফলে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
আগ্নেয়গিরি বা Volcano
আগ্নেয়গিরি বা Volcano হলো ভূ-ত্বকের কোনো ছিদ্র বা ফাটল, যার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা, গ্যাস, ভস্ম এবং বাষ্প প্রবল বেগে বাইরে বেরিয়ে আসে।
সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active): যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে অনবরত অগ্নুৎপাত ঘটে।
- উদাহরণ: ইতালির মাউন্ট এটনা, ভারতের ব্যারেন দ্বীপ।
সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant): যেসব আগ্নেয়গিরি দীর্ঘকাল শান্ত
আছে কিন্তু যেকোনো সময় আবার জেগে উঠতে পারে। এগুলো খুব বিপজ্জনক হয়।
- উদাহরণ: জাপানের মাউন্ট ফুজি, ইতালির ভিসুভিয়াস।
মৃত বা বিলুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Extinct): যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে ভবিষ্যতে অগ্নুৎপাতের আর কোনো সম্ভাবনা নেই(গত ৬০ বছরে কোনো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটেনি)।
।উদাহরণ: মায়ানমারের মাউন্ট পোপা, আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো।
সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano)
যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে বর্তমানেও অগ্ন্যুৎপাত ঘটছে বা নিকট অতীতে ঘটেছে।
| আগ্নেয়গিরির নাম | অবস্থান (দেশ/অঞ্চল) | বিশেষ দ্রষ্টব্য |
| ব্যারেন (Barren) | আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ভারত | এটি ভারতের একমাত্র সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। |
| মাউন্ট এটনা (Mt. Etna) | সিসিলি, ইতালি | ইউরোপের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। |
| স্ট্রম্বলি (Stromboli) | লিপারি দ্বীপ, ইতালি | একে ‘ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ’ বলা হয়। |
| মাউন্ট কোটোপ্যাক্সি (Cotopaxi) | ইকুয়েডর | বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। |
| মৌনা লোয়া (Mauna Loa) | হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, আমেরিকা | আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। |
২. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano)
যেসব আগ্নেয়গিরি বর্তমানে শান্ত আছে কিন্তু ভবিষ্যতে যেকোনো সময় অগ্ন্যুৎপাত ঘটাতে পারে।
| আগ্নেয়গিরির নাম | অবস্থান (দেশ/অঞ্চল) | বিশেষ দ্রষ্টব্য |
| নারকোন্ডাম (Narcondam) | আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ভারত | ভারতের একটি প্রধান সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। |
| মাউন্ট ফুজিয়ামা (Mt. Fuji) | জাপান | জাপানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং পবিত্র পর্বত হিসেবে পরিচিত। |
| ভিসুভিয়াস (Vesuvius) | ইতালি | নেপলস উপসাগরের তীরে অবস্থিত। |
| ক্রাকাতোয়া (Krakatoa) | ইন্দোনেশিয়া | ১৮৮৩ সালে এর ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ইতিহাস বিখ্যাত। |
৩. মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano)
যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে ভবিষ্যতে অগ্ন্যুৎপাতের আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
| আগ্নেয়গিরির নাম | অবস্থান (দেশ/অঞ্চল) | বিশেষ দ্রষ্টব্য |
| মাউন্ট পোপা (Mt. Popa) | মায়ানমার | এটি একটি উল্লেখযোগ্য বিলুপ্ত আগ্নেয়গিরি। |
| মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো (Kilimanjaro) | তাঞ্জানিয়া, আফ্রিকা | আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। |
| অ্যাকনকাগুয়া (Aconcagua) | আর্জেন্টিনা | দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। |
- রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire): প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দেখা যায়।
- মাউন্ট সিনাবুং (Mt. Sinabung): এটি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার খুব সক্রিয় একটি আগ্নেয়গিরি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খবরে ছিল।
- লাকি ও হেলা (Laki & Hekla): আইসল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ আগ্নেয়গিরি।







