এমন মহাজগতিক বস্তুর যার নিজের কোন আলো বা উষ্ণতা নেই ,আলো তাপ পাওয়ার জন্য সূর্যের চারদিকে ঘোরে, একে গ্রহ বলে ।
নিজগ্রহের কোন অংশ অথবা কোন আলাদা গ্রহের অবশেষ ,গ্রহের গুরুত্ব আকর্ষণ এ আটকে গিয়ে এই গ্রহের চারিদিকে ঘোরে নিজের কোন আলো ও তাপ নাই
বুধ গ্রহ (Mercury)
বুধ গ্রহ নিজের কোন বায়ুমণ্ডল নেই ,এই কারণে দিনে তাপমাত্রা 480 ডিগ্রি সেলসিয়া রাতের তাপমাত্রা ১২০ ডিগ্রি থেকে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস দিন ও রাতের মধ্যে উষ্ণতার পার্থক্য প্রায় 600 ডিগ্রি সেলসিয়াস এই কারণে এই গ্রহ মানুষের বাসের উপযোগী নয়।বুধ সূর্যের চারদিকে ঘুরতে সময় নেয় ৮৮ দিন (এক বছর),নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরতে সময় নেয় ৫৮ থেকে ৫৯ দিন ।
সূর্যের নিকটতম ক্ষুদ্রতম এবং সবচেয়ে দ্রুত পরিক্রমণকারী গ্রহ হল বুধ।
বুধের কোন উপগ্রহ নেই ।
শুক্র গ্রহ (Venus)
শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডল রয়েছে ,এই বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে বেশি কার্বন(90-95%) ডাই অক্সাইড বর্তমান তার কারণে সূর্য থেকে আসা আলো দীর্ঘ তরঙ্গ রূপে আছে কিন্তু ফিরে যেতে পারে না তাপ জমা হওয়ার কারণে শুক্র গ্রহ এর উষ্ণতা সবচেয়ে বেশি । শুক্র গ্রহকে প্রেসার কুকার বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ এবং সূর্যের সেকেন্ড কাছের গ্রহ হল শুক্র ।
এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত—সে গুলি হল
- ভোরের তারা (Morning Star)
সূর্য ওঠার আগে পূর্ব আকাশে দেখা যায় । - সন্ধ্যার তারা (Evening Star)
সূর্য ডোবার পরে পশ্চিম আকাশে দেখা যায় । - উজ্জ্বলতম গ্রহ (Brightest Planet)
আকাশে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল গ্রহ । - পৃথিবীর যমজ (Earth’s Twin)
আকার ও গঠনে পৃথিবীর মতো বলে ।
শুক্র গ্রহ এর কোন উপগ্রহ নেই ।
একটি সাধারণত পূর্ব থেকে পশ্চিঘুরে, সূর্যেরপরিক্রমণ করতে সময় লাগে ২২৫ দিন (এক বছর) আমার নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরতে সময় লাগে ২৪৩ দিন (একদিন) ।
শুক্র গ্রহের ঘুর্ণন এবং পরিক্রমণ সারপ্রাইজ আমার ।
পৃথিবী (Earth)
- পৃথিবী (Earth) হলো সূর্য থেকে তৃতীয় গ্রহ এবং একমাত্র পরিচিত গ্রহ যেখানে জীবন আছে।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল রয়েছে প্রধানত নাইট্রোজেন (78%) ও অক্সিজেন (21%)
জীবনের জন্য খুবই উপযোগী - পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরতে সমানে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ ইঞ্চি৪৬সেকেন্ড যাকে আমরা এক বছর বলে থাকি ।
- পৃথিবী তার নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরতে সময় নেয় ২৪ ঘন্টা প্রায় যা একদিন নামে পরিচিত ।
- পৃথিবীর উপগ্রহের নাম চাঁদ ।
মঙ্গল গ্রহ (Mars)
এখানকার মাটিতে লৌহ অক্সাইড (iron oxide) থাকার কারণে নাটকের হয় ,তাই একে লাল গ্রহ বলা হয়ে থাকে ।এখানে এক বছর হয় ৬৮৭ দিনে(সূর্যের একবার পরিক্রমণ করতে সময় লাগে)।এখানে একদিন হয় চব্বিশ ঘন্টা ছয় মিনিটে( নিজের অক্ষের চারিদিকে ঘুরতে সময় লাগে)।
এর দুটি উপগ্রহ আছে –
Phobos
Deimos(সৌরমণ্ডলের সবচেয়ে ছোট প্রাকৃতিক উপগ্রহ)
বৃহস্পতি গ্রহ (Jupiter)
- আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। এটি এর বেশিরভাগই গ্যাস দিয়ে তৈরি
- ।বৃহস্পতি সূর্যের চারদিকে ঘুরতে সময় লাগে 12 বছর, নিজ অক্ষের চারদিকে ঘুরতে সময় লাগে, সারে 9ঘন্টা থেকে দশ ঘন্টা।
- বৃহস্পতি গ্রহ কে তারা সদস্য গ্রহ বলা ।বৃহস্পতির ৬৭ টি উপগ্রহ আছে
সবচেয়ে বিখ্যাত ৪টি
- Io
- Europa
- Ganymede (সৌর মন্ডল এরসবচেয়ে বড় উপগ্রহ)
- Callisto
Asteroid Belt (এস্ট্রোয়েড বেল্ট)
মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে অসংখ্য ছোট ছোট গ্রহ রয়েছে যা Asteroid Belt পরিচিত,এগুলো পৃথিবীর উপর পড়া থেকে বাঁচায় বৃহস্পতির মাধ্যাকর্ষণ বল।
শনি গ্রহ(Saturn)
শনি গ্রহের চারপাশে অসংখ্য গ্রহের টুকরো রয়েছে যেগুলো শনি তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সাহায্যে সাতটি বলয় এর মধ্যে আবদ্ধ রাখে । বলো এগুলোর নাম হল A,B,C,D,E,F,G
শনি গ্রহ এর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক উপগ্রহ রয়েছে । শনি গ্রহ এর সবচেয়ে বড় উপগ্রহের নাম টাইটানশনি ।
ইউরেনাস গ্রহ(Uranus)
ইউরেনাস গ্রহ এর চারপাশে বেশকিছু গ্রহের টুকরো আছে যা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির পাঁচটি বলের মধ্যে আবদ্ধ রয়েছে । ইউরেনাস হলো সূর্য থেকে ৭ম গ্রহ । এখানে মিথেন গ্যাসে প্রাধান্য থাকার জন্য এটি সবুজ কালারের হয় তাদেরকে বলা হয়ে থাকে । এর ২৭ টি উপগ্রহ আছে ।
নেপচুন
এই গ্রুপ পার্টি পূর্ব থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর ঘুরে এবং এখানকার তাপমাত্রা খুবই কম তাই ওকে ঠান্ডা গ্রহ বলা হয়ে থাকে ।
Kuiper Belt
নেপচুন এর বাইরে দিকে অবস্থিত অসংখ্য ছোট গ্রহকে বলা Kuiper Belt হয় ।
প্লুটো
পৌর মন্ত্রণ নবগ্রহ হল প্লুটো, এটি বর্তমান গ্রহ হিসাবে গণ্য করা হয় না।
এটি হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম বামুন গ্রহ ,এর বর্তমান নাম ১৩৪৩৪০। এটি আকারে অনেক ছোট হওয়ায় গ্রহণ দরজায় খনার পায় না কে সাধারণত বামন গ্রহ বলা হয়।
| গ্রহ | সূর্যকে ঘোরার সময় (Year) | নিজের অক্ষে ঘোরার সময় (Day) | রং | পাঠানো যান | বছর | উপগ্রহ সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|---|
| বুধ (Mercury) | 88 দিন | 59 দিন | ধূসর | Mariner 10 | 1974 | 0 |
| শুক্র (Venus) | 225 দিন | 243 দিন | হলুদ-সাদা | Venera 7 | 1970 | 0 |
| পৃথিবী (Earth) | 365 দিন | 24 ঘণ্টা | নীল-সবুজ | — | — | 1 |
| মঙ্গল (Mars) | 687 দিন | 24.6 ঘণ্টা | লাল | Curiosity Rover | 2012 | 2 |
| বৃহস্পতি (Jupiter) | 12 বছর | 10 ঘণ্টা | বাদামি-সাদা | Juno | 2016 | 67 |
| শনি (Saturn) | 29 বছর | 10.7 ঘণ্টা | হলুদ | Cassini | 2004 | 80+ |
| ইউরেনাস (Uranus) | 84 বছর | 17 ঘণ্টা | হালকা নীল | Voyager 2 | 1986 | 27 |
| নেপচুন (Neptune) | 165 বছর | 16 ঘণ্টা | গাঢ় নীল | Voyager 2 | 1989 | 14 |
উল্কাপিণ্ড
থেকে কোন ছোট ছোট গ্রহ খসে পড়ে তখন তাকে উল্কা বলা, পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে পুড়ে পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় ।অনেক সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে পৃথিবীতে এসে পড়ে গর্তের সৃষ্টি করে, একে উল্কাপিণ্ড বলা হয়।
যে সব উল্কা পৃথিবী যেদিকে ঘোরে সেদিকে পড়লে তাকে উল্কাপান্ডা বলা হয় এর গতিবেগ প্রায় সেকেন্ডে ৭২ কিলোমিটার।উল্কাপিণ্ড থেকে যে গর্তের সৃষ্টি করে তাকে বলা হয় ক্রেটার।লোনার হ্রদ হল সবচেয়ে বড় ক্রেটার
যে সব উলকা পৃথিবীর বিপরীত দিকে পড়ে তাকে বলা হয় বোলাইট এর গতিবেগ সেকেন্ডে বারো কিলোমিটার ।
Red Rain কী?
ছোট গ্রহ গুলি অনেক সময় খুলে পড়ার সময় পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের সংস্পর্শে এসে পুরোপুরি জ্বলে যায় যেসব প্রবাসে পড়ে থাকে তার লাল বৃষ্টির উপর পৃথিবীতে আসে এটি Red Rain নামে পরিচিত ।
উল্কা মন্ডপ পৃথিবীতে আসার কারণে পৃথিবীর ভর প্রতিনিয়ত বাড়ছে এর ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণন বেগ বেগ কমছে।যা কোটি বছর আগে পৃথিবী তার নিজের অক্ষের চারিদিকে ঘুরতে সময় লাগতো ১৮ঘন্টা তা আজ সময় লাগে ২৪ ঘন্টা আর পরবর্তী কটি বছর পরে সেই সময় লাগবে ৩০ ঘন্টা। পৃথিবী নিজের অক্ষ (axis)-এর ওপর ২৩.৫° কাত হয়ে আছে,যা পূর্বে ২১ ডিগ্রি ছিল ।
ধুমকেতু
যেসব ছোট ছোট গ্রহ বা উল্কা একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বড় মাঝারি এবং ছোট্ট ছোট্ট ক্ষুদ্র ধূলিকণা হয় পরিণত হয় তা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের না আসার কারণে সেগুলো সূর্যর চারিদিকে ক্রমাগত আবর্তন করতে শুরু করে ,বড় বড় পিণ্ড গুলির পেছনে ছোট ছোট ধুলি গুনাগুলি একে ধুমকেতু বলে।
ধুমকেতুর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ধুমকেতু হলো হ্যালির যা ৭৬ বছরে একবার সূর্যের প্রদক্ষিণ করে, যার ফলে আমরা প্রত্যেক ছিয়াত্তর বছর অন্তর এই ধূমকেতু দেখতে পাই ।
Download PDF Click here.






